পাহাড় আর নদীর রাজ্য ত্রিপুরা — যেখানে প্রায় পাঁচশো বছরের মানিক্য রাজবংশের ঐতিহ্য বাংলা ভাষার সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের শ্বেতশুভ্র গম্বুজের নিচে আজও বাংলা ভাষায় কথা বলেন হাজারো মানুষ, আর তাঁদের জীবনের প্রশ্নও একই বাংলা ভাষাতেই।

রাজপ্রাসাদের ছায়ায় বাংলা ভাষার গৌরব

উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন মানিক্য রাজবংশ, যাঁদের সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিল গভীর বন্ধুত্ব।

ড. প্রদ্যুৎ আচার্য বলেন, "ত্রিপুরার রাজারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। এই ভাষাপ্রেমই ত্রিপুরার বাঙালি মানুষের হৃদয়ে আজও অটুট।"

এই সাংস্কৃতিক বন্ধনের কারণেই তিনি রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে ত্রিপুরার বাঙালি মানুষদের মাতৃভাষায় জ্যোতিষ পরামর্শ দিতে পেরে গর্বিত বোধ করেন।

ত্রিপুরাসুন্দরীর মন্দিরে বাঁধা বিশ্বাস

উদয়পুরের ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির ৫১ সতীপীঠের অন্যতম, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভক্তদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।

ড. আচার্য বলেন, "একটি সতীপীঠ একটি অঞ্চলের আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ত্রিপুরার মানুষের বিশ্বাস আর ভক্তি আমাকে শেখায়, জ্যোতিষও এই একই ঐতিহ্যের বিজ্ঞানসম্মত সম্প্রসারণ।"

রাজ্যের সীমানা ভৌগোলিক, কিন্তু মাতৃভাষার বন্ধন সীমাহীন। এই বিশ্বাসেই আমি ত্রিপুরার মানুষের পাশে থাকি।— ড. প্রদ্যুৎ আচার্য

দূরত্ব যখন বাধা নয়, ভাষা যখন সেতু

আগরতলা থেকে রাণাঘাট প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে, তবু WhatsApp ভিডিও কলের মাধ্যমে এই দূরত্ব মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়।

ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা, বিবাহের প্রশ্ন, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত — এই সমস্ত বিষয়ে নদিয়ার মাটির সন্তান হয়েও ড. আচার্য বিশ্বাস করেন, জ্যোতিষের ভাষা কোনো রাজ্যের সীমায় বাঁধা থাকে না। মাতৃভাষা বাংলাই তাঁকে ত্রিপুরার মানুষের সাথে সংযুক্ত করে।

ভাগ্য পাথরে লেখা নয় — সচেতন কর্মেই তার দিশা বদলায়। এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি ত্রিপুরার বাঙালি মানুষদের পরামর্শ দিয়েছেন।

উপসংহার — রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে ভাষার বন্ধন

ত্রিপুরার মাটি শেখায় — ভৌগোলিক সীমানা যতই থাকুক, ভাষা আর সংস্কৃতির বন্ধন কখনো ছিন্ন হয় না। ড. প্রদ্যুৎ আচার্যের জ্যোতিষ পরামর্শও ঠিক তেমনই — দূরত্বকে অতিক্রম করে মাতৃভাষায় হৃদয়ের সংযোগ।

আগরতলা থেকে উদয়পুর, ধর্মনগর থেকে কৈলাসহর — ত্রিপুরার প্রতিটি বাঙালি মানুষের পাশে আছেন তিনি, WhatsApp ভিডিও কলের এক ক্লিক দূরত্বে।

ত্রিপুরার বাঙালি পরিবারে জ্যোতিষ-সংস্কৃতির শিকড়

আগরতলার বাঙালি সমাজের একটি বড় অংশ পূর্ববঙ্গ থেকে আসা পরিবারের উত্তরসূরি। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার বাঙালিদের পারিবারিক জীবনে বিয়ের কুণ্ডলী মেলানো, সন্তানের নামকরণ ও গৃহপ্রবেশের শুভ মুহূর্ত নির্বাচনের ঐতিহ্য অত্যন্ত দৃঢ়। ত্রিপুরাসুন্দরী মায়ের আশীর্বাদের ছায়ায় এই রাজ্যের মানুষ শক্তিউপাসনাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ মনে করেন।

উদয়পুর, ধর্মনগর বা আগরতলার যেকোনো প্রান্ত থেকে WhatsApp ভিডিও কলে বাংলায় পরামর্শ নেওয়া এখন সহজ। ড. প্রদ্যুৎ আচার্য বছরের পর বছর ধরে ত্রিপুরার বাঙালি পরিবারগুলিকে কুণ্ডলী বিচার, হস্তরেখা ও বিবাহ-মুহূর্ত বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। ভৌগোলিক দূরত্ব এখন আর বিশ্বস্ত পরামর্শের বাধা নয়।