হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা শ্রীরামপুর — যেখানে যুক্তি আর ভক্তি একসাথে বাস করে। এক দিকে উইলিয়াম কেরীর জ্ঞানসাধনা, অন্য দিকে মাহেশের রথের রশিতে হাজারো ভক্তের বিশ্বাস। এই দ্বৈত চরিত্রই শ্রীরামপুরকে অনন্য করে তুলেছে।

এশিয়ার প্রথম ডিগ্রি কলেজের শহর

১৮১৮ সালে উইলিয়াম কেরী শ্রীরামপুরে যে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা এশিয়ার প্রথম ডিগ্রি প্রদানকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

জ্ঞানের প্রতি এই শহরের শ্রদ্ধা আজও অটুট। ড. প্রদ্যুৎ আচার্য যখন শ্রীরামপুরের ছাত্রছাত্রী বা অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন, তখন প্রায়ই বলেন — "যে মাটিতে জ্ঞানচর্চার এত পুরনো ইতিহাস, সেই মাটির মানুষ জ্যোতিষকেও কুসংস্কার নয়, একটি শাস্ত্র হিসেবেই বোঝেন।"

এই যুক্তিবাদী মানসিকতা তাঁর পরামর্শকে আরও স্বচ্ছ করে তোলে — গ্রহ-নক্ষত্রের গাণিতিক হিসাব আর জীবনের বাস্তবতার মেলবন্ধনেই এখানকার মানুষ আস্থা রাখেন।

মাহেশের রথের রশিতে বাঁধা বিশ্বাস

মাহেশের রথযাত্রা পুরীর পরে ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম, ৬০০ বছরেরও বেশি পুরনো।

প্রতি বছর হাজারো মানুষ এই রথের রশি স্পর্শ করতে আসেন — বিশ্বাস করেন এতে পুণ্য হয়। ড. আচার্য বলেন, "বিশ্বাস আর যুক্তি পরস্পরবিরোধী নয়। জ্যোতিষও তেমনই — গাণিতিক নির্ভুলতা আর আধ্যাত্মিক প্রশান্তি দুটোই একসাথে দিতে পারে।"

শ্রীরামপুরের মানুষ প্রশ্ন করেন যুক্তি দিয়ে, বিশ্বাস করেন হৃদয় দিয়ে। এই ভারসাম্যই একটি সুস্থ জীবনদর্শন।— ড. প্রদ্যুৎ আচার্য

শিল্প আর নদীর শহরে জীবনের প্রশ্ন

রিষড়া, চাঁপদানি, বৈদ্যবাটি — হুগলি নদীর তীর ধরে গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চলে বহু মানুষের জীবিকা পাটকল ও ছোট ব্যবসার উপর নির্ভরশীল।

কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা — এই বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়েই ড. আচার্যের কাছে আসেন হুগলি জেলার মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন, নদিয়ার মাটির সন্তান হয়েও জ্যোতিষের ভাষা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সীমায় বাঁধা থাকে না — মানুষের জীবনের প্রশ্ন সর্বত্র একই।

ভাগ্য পাথরে লেখা নয় — সচেতন কর্মেই তার দিশা বদলায়। এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি শ্রীরামপুর ও সংলগ্ন এলাকার হাজারো মানুষকে পরামর্শ দিয়েছেন।

উপসংহার — জ্ঞান আর ভক্তির শহরে আজকের সমাধান

শ্রীরামপুরের মাটি যুক্তি আর বিশ্বাসের এক অনন্য সহাবস্থান শেখায়। ড. প্রদ্যুৎ আচার্যের জ্যোতিষ পরামর্শও ঠিক তেমনই — বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি আর আধ্যাত্মিক প্রশান্তির মেলবন্ধন।

রিষড়া থেকে চাঁপদানি, মাহেশ থেকে বৈদ্যবাটি — হুগলি নদীর তীরের এই শহরের প্রতিটি মানুষের পাশে আছেন তিনি, WhatsApp ভিডিও কলের এক ক্লিক দূরত্বে।

মাহেশের রথের ধর্মভূমিতে বৈদিক জ্যোতিষের সেবা

শ্রীরামপুর এশিয়ার প্রথম মুদ্রণালয়ের শহর — ১৮০০ সালে উইলিয়াম কেরি এখানে বাংলা মুদ্রণ শুরু করেন। কিন্তু এই শহর আরও পুরনো ঐতিহ্য ধারণ করে — মাহেশের রথযাত্রা ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা হিসেবে বিখ্যাত। হুগলি নদীর তীরে ডেনমার্কের ফ্রেডেরিকনগর (শ্রীরামপুর) ঔপনিবেশিক স্থাপত্যে সমৃদ্ধ।

শ্রীরামপুর, রিষড়া, ভদ্রেশ্বর, কোন্নগরের পরিবারগুলি কলকাতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এই শহরতলির মানুষ বিবাহ, গৃহক্রয়ের শুভ মুহূর্ত এবং সন্তানের ক্যারিয়ারের পরামর্শে জ্যোতিষীর কাছে যান। ড. আচার্যের অনলাইন পরামর্শ WhatsApp-এ পাওয়া যায় — দূরত্ব কোনো বাধা নয়।